আরবি মাসের কত তারিখ আজকে | আজকের হিজরি তারিখ
আরবি মাসের কত তারিখ আজকে বা আজকের হিজরি তারিখ জানতে নিচের Live Hijri Date দেখুন। এখানে আজকের আরবি মাস, হিজরি তারিখ এবং ইংরেজি তারিখ দেখানো হবে। চাঁদ দেখা ও স্থানীয় ঘোষণার কারণে তারিখে একদিন পার্থক্য হতে পারে।
আজকের আরবি তারিখ
চাঁদ দেখা ও স্থানীয় ঘোষণার কারণে তারিখে একদিন পার্থক্য হতে পারে।
আরবি মাসের কত তারিখ আজকে বা আজকের হিজরি তারিখ ও আমাদের আরবি বা হিজরি মাসের নাম সম্পর্কে অনেকের পরিষ্কার ধারণা নেই। অথচ একজন মুসলিম হিসেবে হিজরি ক্যালেন্ডার, আরবি মাস ও ইসলামিক গুরুত্বপূর্ণ দিন সম্পর্কে জানা আমাদের জন্য উপকারী।
আজকে আরবি মাসের কত তারিখ? আজকের হিজরি তারিখ
আজ আরবি মাসের কত তারিখ সেটা জানা থাকলে আমরা ইসলামি উৎসবগুলো জানতে পারি। তবে আপনাদের মনে প্রশ্ন আসতে পারে যে আরবি মাসের কত তারিখ আজ তারিখগুলি দেশ ভেদে ভিন্ন হতে পারে। মুসলিম সম্প্রদায় রমজান, হজ এবং ঈদ উদযাপনের মতো ধর্মীয় অনুষ্ঠান নির্ধারণের জন্য এই ক্যালেন্ডার ব্যবহার করে। আজ আরবি মাসের কত তারিখ সেটা চাঁদ দেখার উপর নির্ভর করে।
নতুন চাঁদ দেখার দোয়া
আরবি মাসের ক্যালেন্ডার কি?
আরবি মাসের ক্যালেন্ডার মুসলিমদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি
চন্দ্রভিত্তিক ক্যালেন্ডার। এই ক্যালেন্ডারে মোট ১২টি মাস রয়েছে। রমজান, ঈদুল
ফিতর, ঈদুল আজহা, হজ, আশুরাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইসলামিক দিন হিজরি
ক্যালেন্ডারের তারিখ অনুযায়ী নির্ধারিত হয়।
হিজরি তারিখ কী?
হিজরি বা ইসলামি তারিখগুলো প্রতি মাস প্রায় ২৯–৩০ দিনে হয়; একটি বছর সাধারণত ৩৫৪–৩৫৫ দিন হয়। হিজরত (৬২২ খ্রিস্টাব্দ) থেকে গণনা শুরু হয়েছিলো। চাঁদ দেখা ও জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির ঘোষণায় রোজা ও ঈদ সংক্রান্ত তারিখে এক দিন পার্থক্য হতে পারে।
আরবি বা হিজরি ১২ মাসের নাম ও বর্ণনা
আরবি বা হিজরি মাস এবং আরবি মাসের নাম, গুরুত্ব তাৎপর্য ও ফজিলত সম্পর্কে নিচে আলোচনাঃ
১। মুহররম মাস
মুহররম হিজরি সনের প্রথম মাস। এটি ইসলামের চারটি সম্মানিত মাসের একটি। এই মাসের বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। সহিহ হাদিসে মুহররম মাসে নফল রোজার বিশেষ ফজিলতের কথা বর্ণিত হয়েছে। বিশেষ করে আশুরার রোজা মুসলিমদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি আমল। তবে কোনো নির্দিষ্ট আমল বা ফজিলত উল্লেখ করার সময় সহিহ কোরআন ও হাদিসের দলিল অনুসরণ করা উচিত।
২। সফর মাস
আরবি বছরের দ্বিতীয় মাসের নাম হচ্ছে সফর। আল্লাহর সন্তুষ্ট অর্জনের জন্য এই মাসে বেশি বেশি আমল ও নফল ইবাদত করার কথা বলা হয়েছে। আল্লাহর সকল মাসেই অনেক ফজিলত পূর্ণ। আরবির অন্যান্য মাসের মতই আমরা সফর মাসে বেশি বেশি ইবাদত করব ইনশাল্লাহ। আরবি মাসের কত তারিখ আজ জেনে নেই।
৩। রবিউল আউয়াল মাস
রবিউল আউয়াল হিজরি সনের তৃতীয় মাস। ইসলামের ইতিহাসে এই মাসটি বিশেষভাবে আলোচিত।
রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর জন্ম ও ইন্তেকালের তারিখ নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। তাই এ বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করার ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য ইসলামিক সূত্র অনুসরণ করা উচিত। তবে অন্যান্য মাসের চাইতে এ মাসের গুরুত্ব অনেক বেশি।
৪। রবিউস সানি মাস
আরবি বছরের চতুর্থ মাসের নাম রবিউস সানি। আরবীর অন্যান্য মাসের মতো এ মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত অনেক বেশি। আমাদের বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) প্রতি চন্দ্র মাসের ১৩-১৪ ও ১৫ তারিখে রোজা পালন করতেন। তাই আমরা ও চেষ্টা করব প্রীতি চন্দ্র মাসের ১৩-১৪-১৫ তারিখে রোজা রাখার। আরবি মাসের কত তারিখ আজ জেনে নেই।
৫। জামাদিউল আউয়াল
আরবি বছরের পঞ্চম মাসের নাম জামাদিউল আউয়াল। আরবির অন্যান্য মাসের মত এ মাসেও বেশি বেশি ফরজ নফল ও ওয়াজিব ইবাদত করার কথা বলা হয়েছে। আরবি মাসের কত তারিখ আজ জেনে নেই।
৬। জামাদিউস সানি
জমাদিউস সানি হিজরি সনের ষষ্ঠ মাস। অন্যান্য মাসের মতো এই মাসেও নামাজ, দান সাদকা এবং অন্যান্য নেক আমল করা যায়। নির্দিষ্ট কোন বিশেষ আমল বা বিশেষ ফজিলত প্রমানিত নয়।
৭। রজব মাস
রজব হিজরি সনের সপ্তম মাস এবং ইসলামের চারটি সম্মানিত মাসের একটি। এই মাসে ফরজ ইবাদতের পাশাপাশি সাধারণ নফল ইবাদত করা যেতে পারে। তবে রজব মাসের জন্য নির্দিষ্ট কোনো বিশেষ নামাজ বা নির্দিষ্ট রোজাকে সুন্নত হিসেবে প্রচার করার ক্ষেত্রে সহিহ দলিল জানা জরুরি। তাই রজব মাসের চাঁদ দেখা গেলে এই মাসে বেশি বেশি আমল করতে হবে।
আরও পড়ুনঃ রজব মাসের গুরুত্ব, ফজিলত ও বিশেষ আমল
৮। শাবান মাস
শাবান হিজরি সনের অষ্টম মাস এবং রমজানের আগের মাস। সহিহ হাদিস থেকে জানা যায়, রাসুলুল্লাহ ﷺ শাবান মাসে অন্যান্য মাসের তুলনায় বেশি নফল রোজা রাখতেন।
শাবান মাসের ১৫তম রাতকে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার অনেক মুসলিম শবে বরাত নামে অভিহিত করেন। এ বিষয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।
আরও পড়ুনঃ শবে বরাত পালন করা কি বেদআত - শবে বরাতে রোজা রাখা যাবে কি
৯। রমজান মাস
রমজান হিজরি সনের নবম মাস এবং মুসলিমদের কাছে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ একটি মাস। এই মাসে সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত রোজা পালন করা হয়। পবিত্র কোরআন নাজিলের সঙ্গে রমজান মাসের বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। এই মাসে রোজা, তারাবিহ, কোরআন তিলাওয়াত, দান সাদকা এবং অন্যান্য নেক আমলের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের চেষ্টা করা হয়।
১০। শাওয়াল মাস
শাওয়াল হিজরি সনের দশম মাস। এই মাসের প্রথম দিন মুসলিমরা ঈদুল ফিতর উদযাপন করেন।শাওয়াল মাসে ছয়টি নফল রোজা রাখার বিশেষ ফজিলত সহিহ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। শাওয়াল মাসের ছয়টি রোজা অনেক ফজিলত পূর্ণ। তাই আমরা সকলে চেষ্টা করব শাওয়াল মাসে নফল রোজা রাখার।
১১। জিলকদ মাস
আরবি মাসের একাদশ মাস হচ্ছে জিলকদ মাস। জিলকদ হিজরি সনের একাদশ মাস এবং ইসলামের চারটি সম্মানিত মাসের একটি।এ মাসে অন্যান্য সময়ের মতো ফরজ ইবাদত পালন এবং নেক আমল করা উচিত। জিলকদ মাস কে হজের দ্বিতীয় মাসও বলা হয়। আরবি চার মর্যাদা সম্পূর্ণ মাসের মধ্যে একটি হচ্ছে জিলকদ মাস। এটি মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মাস।
১২। জিলহজ মাস
জিলহজ হিজরি সনের দ্বাদশ ও শেষ মাস। এই মাসে হজের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিন অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। এই মাসের ৯ তারিখ আরাফার দিন এবং ১০ তারিখ ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ। এই মাসে আমাদের নবী ইব্রাহিম (আঃ) ও ইসমাইল (আঃ) অতুলনীয় সেই ঘটনাকে মনে করিয়ে দেয়।
আরও পড়ুনঃ শাবান মাসের ফজিলত - শাবান মাসের রোজা

এই ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url